Monday, November 20, 2017

দ্য রোড

যেকোন সন্ধ্যায়
দিকভ্রান্তপুর ঘুরে আসা যায়
ঘুরে আসা যায় আর যত অগম্য ঠিকানা
ততক্ষনে চেনা পথ মিথ্যে হয়ে যায়

যে পথে ছুঁড়ে দিলে মৎস্য চোখ
যে পথে ছুঁড়ে দিলে উম্মুখ তির
দুই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় কুহকির ভিড়ে
আচমকা লুফে নেওয়া শিকারী অধীর  

Friday, October 20, 2017

এতো বড় রঙ্গ জাদু...

 (কলকাতা থেকে প্রকাশিত 'অর্কিড' কাগজে পূজাসংখ্যা ১৪২৪ ) 
রঙ্গমঞ্চ ঝলসানো সব রংমাখা নট-মুখ 
নটদের বুকে দুরু দুরু ভয়, প্রথম অংক শুরু
আলোর ফোকাস শব্দক্ষেপণ নাটুকে পদক্ষেপ
রঙ্গালয়ের কুশীলবদের ক্ষতবিক্ষত বুক
নাট্যদৃশ্যে অভিনেতা কিছু দালান কোঠার বাসি
গৃহসাজে আছে চাকচিক্য, আবহ বদলে যায়
স্বগৃহে তাঁর রুগ্না স্ত্রী, যমে মানুষে লড়ে-
দ্বিতীয় ফোকাসে আলো নিভলেই আঁধার পুনরায়
ড্রপসিন পড়ে বিরতির বেল এবারে মধ্যান্তর
প্রথম অংক দ্বিতীয় অংক, পূর্ণদ্বৈর্ঘ্য পালা 
কৈশোর পেরিয়ে ভরা যৌবনে মঞ্চের কুশীলব
দৃশ্য শেষে, মৃত্যু শিয়রে নেই গত্যন্তর !
রঙ্গমঞ্চ ঝলমল করে পেছনে অন্ধকার
অনু পদক্ষেপে সঞ্চারে সব অভিনেতা রংমাখা
মরো-মরো কারো পরান ভোমরা কেউবা প্রাণময়
এতো বড় রঙ্গজাদু, নট নটীদের গাথা !  

Sunday, February 5, 2017

"যাও পাখি" ... প্রথম কবিতার বই

"যাও পাখি" ...আমার প্রথম কবিতার বইটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন । pdf ফর্ম্যাট এ নামিয়ে নিয়ে অবসরেও পড়া যাবে ।

Thursday, July 14, 2016

মেঘ অভিষেক


(প্রকাশিত: ব্যতিক্রম, জুন 2016 সংখ্যা, গুয়াহাটি)

বৈশাখী বৃষ্টিতে দৃষ্টি মেলে দিলে পেন্সিল ঘষা আকাশটা পুরোনো লাগে
মোম কাগজের মতো সবুজের জঙ্গল ধূসরতা নিয়ে আশ্চর্যময় জাগে
খুব কাছাকাছি তিনটি শালিখ মোহ ফাঁদে নেমে পতঙ্গ খুঁজে মরে
বৃষ্টি বাগানে ছাইরঙ ফুল দাপদাপি করে মন্দ্র মধ্য তাঁরে   
হৃদয় আয়নার গুড়ো গুড়ো কাঁচ ঝিলমিল করে রূপালী গ্রীষ্ম জলে
আবছায়া টুকু গাঢ়তর হয় – মেঘের মতো বৈশাখী বিকেলে

এক আকাশময় ধুসর ভাবনা সাদা কাগজে পেন্সিল-ঘষা কালো   
বৃষ্টির সঙ্গে নেমে এস ম্লান – আমার সঙ্গে অগস্ত্য যাত্রায় চলো !

সমুদ্র উল্লাস

(প্রকাশিত : ব্যতিক্রম এপ্রিল 2016 সংখ্যা, গুয়াহাটি )


এভাবেই জ্বলছে দাউদাউ আগুনে
শহরের পাপমাখা ঘর বাড়ি
ব্রহ্মতালু জ্বলছে বিবর্ণ নগরের
জল নেই? সব চোরা কারবারি !

ফুটপাথে ছড়ানো আধপোড়া মৃতদেহ
শ্যামলীমা নয়, শুধু গাছেদের লাশ
জ্বলুক তবে এই শহর, ঝলসে পুড়ুক
আমি শুনি দুকানে সমুদ্র উল্লাস !

জানলার তাতান শিক চেপে ধরে
ভাই তোর মনে আছে? অন্ধকার আগুন-
করবি আঁচল অগ্নি নদী হয়ে যায়
বোন পোড়ে, সেই সঙ্গে পোড়ে তার ভ্রূন !

আমি তুই সবে মিলে আগুনে ঝাপাব
বৃষ্টি জল পুড়ে সব হবে বাষ্পময়,
আমাদের অন্তজের অগ্নিময় দেহ
সমুদ্রের পরপারে শেষকৃত্য হয়

Tuesday, May 31, 2016

জলের মশাল



(প্রকাশিত : বজ্রকণ্ঠ জানুয়ারী 2017 সংখ্যা, ত্রিপুরা )
তাঁর হাত আগুনে পুড়েছে কতবার
তবু যন্ত্রনা ব্যক্ত করেনি কখনো
মাথা ছুঁয়ে এসেছে আকাশি ছাদ
নদী তীরের বালু মোহনায়
নাক বরাবর হেটেছে তাঁর ক্লান্ত পা !

দেশীয় সীমানা পেরিয়ে গেছে
তাঁর সন্ততিরা, সেই কবে এক নির্জীব ভোরে
অশীতিপর দৃষ্টি চলে গেছে
অপেক্ষাক্লান্ত মহাকাশ পর্যন্ত  -
প্রাচীন বটের শেকড় আর শ্যওলা জড়ানো
দুটি পায়ে , উত্তাপ হারিয়েছে ক্রমাগত !

রমজান শেষ । কাস্তের মতো তাঁর পূর্ণ চাঁদে
ভাঙ্গন ধরেছে !
তবু ধুসর আকাশে দৃষ্টি মেলে দেয় সে ।
নিকষ অন্ধকারে পথ খুঁজে চলে,
দলঘাস, ঝোপ-জঙ্গল পেরিয়ে সুদীর্ঘ সীমানায়
পোড়া হাতে উত্তোলিত থাকে
নিষ্কম্প উজ্জল – সদর্প অগ্নিময়
এক অনড়, উষ্ণ – জলের মশাল !




 

Sunday, January 3, 2016

কবির সঙ্গে মুখোমুখি

কখনো নীরবতাই শ্রেয় শুদ্ধ পরিপূর্ণ
প্রিয় কবির মুখোমুখি শরীর
বাইরে ঝমঝমে বৃষ্টির আবেশ । তবু আড়ষ্টতা

কবি কে বলা যায়, আপনার কবিতা খুব ভালবাসি
কারণ এর পর আর তৃতীয় সংলাপ থাকে না ।

তারচেয়ে ভাল অংধকরময় ব্যথায় কবির
প্রথম সংকলনের শেষ কবিতা পড়া ।
সেখানে নিরবতা মুখর হয় । কী অবলীলায়
একে একে খুলে যেতে থাকে দীর্ণতার পরত

আমি আর কবি একসাথে অবগাহন করি

অনন্ত চিদাকাশে । শুদ্ধতায় পরিপূর্ণতায়