Tuesday, May 31, 2016

জলের মশাল



(প্রকাশিত : বজ্রকণ্ঠ জানুয়ারী 2017 সংখ্যা, ত্রিপুরা )
তাঁর হাত আগুনে পুড়েছে কতবার
তবু যন্ত্রনা ব্যক্ত করেনি কখনো
মাথা ছুঁয়ে এসেছে আকাশি ছাদ
নদী তীরের বালু মোহনায়
নাক বরাবর হেটেছে তাঁর ক্লান্ত পা !

দেশীয় সীমানা পেরিয়ে গেছে
তাঁর সন্ততিরা, সেই কবে এক নির্জীব ভোরে
অশীতিপর দৃষ্টি চলে গেছে
অপেক্ষাক্লান্ত মহাকাশ পর্যন্ত  -
প্রাচীন বটের শেকড় আর শ্যওলা জড়ানো
দুটি পায়ে , উত্তাপ হারিয়েছে ক্রমাগত !

রমজান শেষ । কাস্তের মতো তাঁর পূর্ণ চাঁদে
ভাঙ্গন ধরেছে !
তবু ধুসর আকাশে দৃষ্টি মেলে দেয় সে ।
নিকষ অন্ধকারে পথ খুঁজে চলে,
দলঘাস, ঝোপ-জঙ্গল পেরিয়ে সুদীর্ঘ সীমানায়
পোড়া হাতে উত্তোলিত থাকে
নিষ্কম্প উজ্জল – সদর্প অগ্নিময়
এক অনড়, উষ্ণ – জলের মশাল !




 

Sunday, January 3, 2016

কবির সঙ্গে মুখোমুখি

কখনো নীরবতাই শ্রেয় শুদ্ধ পরিপূর্ণ
প্রিয় কবির মুখোমুখি শরীর
বাইরে ঝমঝমে বৃষ্টির আবেশ । তবু আড়ষ্টতা

কবি কে বলা যায়, আপনার কবিতা খুব ভালবাসি
কারণ এর পর আর তৃতীয় সংলাপ থাকে না ।

তারচেয়ে ভাল অংধকরময় ব্যথায় কবির
প্রথম সংকলনের শেষ কবিতা পড়া ।
সেখানে নিরবতা মুখর হয় । কী অবলীলায়
একে একে খুলে যেতে থাকে দীর্ণতার পরত

আমি আর কবি একসাথে অবগাহন করি

অনন্ত চিদাকাশে । শুদ্ধতায় পরিপূর্ণতায়  

Saturday, September 26, 2015

বোধন

আবার এসেছে আশ্বিন
আনুষঙ্গিক সবাই সংগে আছে
ভেজা ঘাস, শিউলি, ভোরের কুয়াশা
রোদ্দুরে শুকনো খড় আর
কুমারের নরম সাদা মাটি

ইতিমধ্যে পুরনো হয়ে গেছে
টাওয়ারের কণ্ঠায় ইস্পাত পাখির দাপদাপির কাহিনি,
থামছে সমুদ্র উপকূলে গাজা উপাক্ষ্যান
হঠাত্পথ ছেড়ে রেল, শূন্যে বাতাসে বা জলে
কু ঝিক ঝিক করতে করতে চলে গেল অনন্তের পথে
ভাগ্যিস সেদিন অপু দুর্গা দাড়িয়ে ছিল না
কাশবনের পাশে !
দেশীয় শান্তি বজায়ে বিরোধী নেতারাও বনধ ডেকেছিলেন

টেলিমোবাইল যোগে বেহেস্ত আর বৈকুন্ঠ সরগরম
শ্রীহরি আর খোদাতালার অনুগামীরা
ওর বাধা এলাকায় ঢুকে
খেয়োখেয়ি আর বাদর নাচ করে জখম হচ্ছে অবিরত

অসময়ে বাতাসে নররক্ত দিয়ে হোলি উত্সব জমেছে-
অন্দর মহলের অজস্র কেচ্ছা
শাক দিয়ে সযত্নে মুড়ে
মন্ত্রীরা শান্তি সংঘের বিদেশী বৈঠকে বসছেন

পিতৃপক্ষের শেষে দেবীপক্ষের শুরু
ঢাকের বাদ্যি শুরু হয়েছে ততক্ষণে,
তৈরি মন্ডপে সাজসজ্জা, আলো, কল্কা, কলস-
সযত্নে লুকানো গেছে, উত্সাহী যুবাদের
শেষরাতের কারনবারি

স্বামী আর নিরীহ সন্তানদের সাথে
মা আসছেন
আনুষঙ্গিক সবাইকে সঙ্গে নিয়ে
ভেজা ঘাস শিউলি ভোরের কুয়াশা মাটি
খড়, রক্ত, গুলি, আর ধোয়ার সাথে

এবারে আশ্বিনে !  

Tuesday, August 4, 2015

জাতিস্মর

আমার কথা মনে পড়লেই
বেরিয়ে আসে দীর্ঘশ্বাস
      বুকমাথা আর পেট থেকে
                          বেরিয়ে আসে দীর্ঘশ্বাস
সোনারঙের দিনগুলো-শুয়োপোকার মতো
বেরিয়ে আসে চেতনার আকাশে!


আমি মাঠে খেলতামনদীতে নাইতাম
কাশেমচাচার বাড়ি যেতাম
আমার বাড়ি নবীগঞ্জে
আমার বাড়ি আখাউড়ায়
আমার বাড়ি ছুটতে ছুটতে...ব্রাহ্মণবেড়িয়ায়!


রেজানুরআমিনারুকুদের সাথে
ছুটতে ছুটতে হঠাৎ টুকরো টুকরো
তুলোর মতো ছড়িয়ে যেতাম পাবনায়খুলনায়!


ঐখানে একটা ডোবা ছিলঐখানে রেলপথ
ঐখানে বিশালাক্ষ্মীর মন্দিরএইতো
ঈদএইতো নবান্ন...এখানে কাশেম
ওখানে নবারুণ। ঐখানে বাঁকা চাঁদ
ডুবে যাওয়াজংলাঝোপ---শালডুংরি
ওখানেই খুব আবেগে আমিনাকে জড়িয়ে ধরা!
সেসব কথা মনে পড়লেই বেরিয়ে আসে দীর্ঘশ্বাস।


ফিঙে পাখিদের গা ডোবানো বুড়িগঙ্গায়
চিত সাঁতারে হারিয়ে যেতাম
আর বাঁশিতে হলুদ আকাশে ছড়িয়ে দিতাম বিষাদসুর
আমার বাড়ি তখন ঢাকায়! আমার বাড়ি বিক্রমপুর!


হঠাৎ দেখি মানুষগুলো কেমন যেন টুকরো মেঘে
হারিয়ে যাচ্ছে মাটির মানুষকান্না চাপায় ক্ষিদের বেগে।


ছড়িয়ে পড়ে মাটির মানুষটুকরো হয়ে রক্ত আকাশ
সেসব কথা মনে পড়লেই---
আর কিছু নয়দীর্ঘশ্বাস!

এদেশের দামিনীদের

বৃথাই করে চেচামেচি সব আহাম্মকের দল
মেয়েটি বড়ই বোকা
ভ্রূনে মরে গেলেই পারতো ।
তোর মতো কত সদ্যজাতা পৌরসভার নালায়
ফেলে রাখা আছে আস্তাকুড়ে
জায়গা কোথায় এত?যে কটা তবু ঘর পেয়েছে – গঞ্জনাময় পাওয়া-
মা পেয়েছে খুব বকুনি
থাম্মা পিসির মতো !
এরপরেতে স্কুল কলেজ আর অনেকখানি হ্যাপা
পড়তুতো দাদা দুরতুতো মামা
হঠাত্‍ লুকিয়ে আদর কোরতো !
দেখতে তোকে আস্ত যত বোকা বোকা রাজপুত্তূর
জমিজমা নোট গয়নাগাটি
এসব ভিক্ষে করত !
গলির মোড়ে অন্ধকারে মুরগি পাঠার মতো
তোর মাংস অনেক মানুষ
ঠুকরে খেতে চাইতো !
লজ্জিত যত শেয়াল শকুন রাজপথে প্রান্তরে
বিলুপ্তিরই পথ ধরেছে
একদম তোর মতো ।
মেয়েটির কবরশ্মশানভূমিপুরো দেশটা জুড়ে
সংগ্রামী মেয়েবড্ড বোকা-
ভ্রূনে মরে গেলেই পারতো!